গোপালগঞ্জে পিতাকে হত্যার দায়ে মাদকাসক্ত ছেলের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

✍🏻: গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

গোপালগঞ্জে পিতাকে হত্যার দায়ে ছেলে আলীম কাজীকে (২৫) যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক।

এসময় ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সামছুল হক এ সাজা প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত আলীম কাজী (২৫) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চর মানিকদাহ কাজীর বাজার গ্রামের মৃত ইসমাইল কাজীর ছেলে|

আদালত ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানাগেছে, সাজাপ্রাপ্ত আলীম কাজী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন| ২০২৩ সালের ১২ মে সন্ধ্যায় আলীম কাজী মাদক সেবন করে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চর মানিকদাহ কাজীর বাজার এলাকায় নিজ বাড়ীতে এসে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর শুরু করলে তার বাবা ইসমাইল কাজী তাতে বাঁধা দেন| এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলীম তার বাবাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান| পরদিন ১৩ মে সকালে বাবা ইসমাইল কাজী বাড়ির পাশে আখের রস বিক্রির উদ্দেশ্যে আখ পরিষ্কার করছিলেন|

এসময় মাদকসেবী আলীম বটি হাতে নিয়ে তার পিতা ইসমাইল কাজীকে গালিগালাজ করে। এসময় ইসমাইল কাজী ছেলে আলীমকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে হাতে থাকা বটি দিয়ে গলায় কোপ দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে ইসলাইল কাজীকে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষনা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে সেলিম কাজী বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে পুলিশের তদন্ত ও স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সামছুল হক এ সাজা প্রদান করেন। বায় ঘোষনার সময় আসামী আদালতে উপিস্থিত ছিলেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাভোকেট এম এম জুলকদর বলেন, আমার বাদী সেলিম কাজী বাবা ইসলাইল কাজীকে হত্যা করে তারই ছেলে আলীম কাজী। আমরা আশা করেছিলাম আসামীর ফাঁসির রায় হয়ে। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত সব দিক বিবেচনা করে আসামীকে যাবজ্জ্বীবন কারাদন্ড দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা খুশি হলেও আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যাভোকেট আবু তালেব শেখ বলেন, বাদী ও স্বাক্ষাদের বক্তব্য ও আদালতে স্বাক্ষীর মধ্যে কোন মিল নেই। আমরা আসামীর খালাস চেয়েছিলাম। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত যাবজ্জ্বীবন কারাদন্ডের রায় দিয়েছেন। আমরা ন্যয্য বিচার পাইনি, ফলে আমরা উচ্চ আদালতে আবেদন করবো।