যশোরের বাঘারপাড়ায় তেভাগা আন্দোলনের পুরোধা, আজীবন কমিউনিস্ট, কমরেড অমল সেনের ১১৩তম জন্মজয়ন্তী পালিত হয়েছে| দিবসটি পালন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে ‘কমরেড অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটি’| রোববার উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের এগারোখানের বাকড়ী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে অমল সেন স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলির মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়| এরপর আলোচনাসভা ও প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়|
এদিন দুপুরে কমরেডের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর পর বাকড়ী গোচর মাঠে অলোচনা সভায় অংশ নেন কমরেড অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি ও বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবীর জাহিদ, নড়াইল জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক জহিরুল হক জহির, বাঘারপাড়া উপজেলা কমিটি ও স্মৃতি রক্ষা কমিটির সাধারন সম্পাদক বিপুল বিশ্বাস, যশোর জেলা কমিউনিস্ট লীগের সদস্য পলাশ বিশ্বাস, সদস্য বিথীকা বিশ্বাস, প্রফেসর রমেশ চন্দ্র অধিকারী, অপূর্ব অধিকারী, দিলীপ বিশ্বাস, সুবোধ বিশ্বাস প্রমুখ|অলোচনা শেষে একই মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়| এতে অংশগ্রহণ করে বসুন্দিয়া ফুটবল একাদশ বনাম নড়াইল ফুটবল একাদশ| এরপর সন্ধ্যায় কমরেড অমল সেন এর সমাধিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়| উল্লেখ্য, কমরেড অমল সেন ১৯১৩ সালে ১৯জুলাই নড়াইল জেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা গ্রামে এক জমিদার পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন| কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের দাবি আদায়ে আজীবন সেই জমিদার, জোতদার তথা ভূ¯^ামীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন|
আজীবন বিপ্লবী নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এ মহান নেতা ২০০৩ সালের ১৭জানুয়ারি ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন| তাঁর শেষ ইচ্ছানুযায়ি বাকড়ী বিদ্যালয় চত্বরে মরদেহ সমাধিস্থ করা হয়| যেখান থেকে তেভাগা (উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ পাবে কৃষক) আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন|
