বাঘারপাড়ায় চোরের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে বাসা ছাড়ছেন ভাড়াটিয়া

✍🏻: নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: ২ মাস আগে

যশোরের বাঘারপাড়ায় একের পর এক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতবাড়ি, ফাঁকা বাসা—কোনোটিই যেন চোরদের হাত থেকে নিরাপদ নয়। রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও সুযোগ বুঝে চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।
সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে কোনো বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়া কয়েক দিনের জন্য বাইরে গেলে সেই বাড়িকে লক্ষ্য করছে চোরচক্র—এমন অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা।
গত শনিবার বাঘারপাড়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। কয়েক দিন ধরে বাসাটি ফাঁকা থাকার সুযোগে চোরেরা ছাদ দিয়ে বাসায় প্রবেশ করে তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে যায়। এমনকি ফ্রিজে রাখা মাংস রান্না করে খেয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ওই ভাড়াটিয়া সোমবার সকালে বাসার মালামাল নিয়ে বাঘারপাড়া ছেড়ে চলে গেছেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চুরির পর থানায় অভিযোগ করা হলেও দ্রুত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণেই বাধ্য হয়ে বাসা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
পৌরসভার একাধিক বাসিন্দা জানান, তাদের বাসাবাড়ির পানির মোটরসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র একের পর এক চুরি হচ্ছে। এতে রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও বাড়িঘর নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হচ্ছে তাদের।
শুধু পৌরসভা নয়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও চুরির ঘটনা ঘটছে। বাঘারপাড়ার রায়পুর ইউনিয়নের আব্দুল খালেক জানান, তার এলাকায় একই সময়ে চারটি মোটর চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চোর আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চুরির ঘটনা ধারাবাহিকভাবে ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার কিংবা চোরচক্র শনাক্ত না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে সন্ধ্যার পর অনেকেই বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় থাকছেন।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম জানান, চুরির ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।