ভাঙা কাঠের পুলে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, দুর্ভোগে দুই গ্রামের মানুষ

✍🏻: দেশদৃষ্টি ডেস্ক:
প্রকাশ: ১ মাস আগে

ভাঙা তক্তা, পচে যাওয়া খুঁটি আর কোথাও কোথাও তৈরি হওয়া ফাঁক—এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের পুল দিয়েই প্রতিদিন নদী পার হচ্ছেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দুই গ্রামের হাজারো মানুষ। 
পুলের একাধিক অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আতঙ্ক নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক, মৎস্যচাষি, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে।

পাইকগাছার ৯ নম্বর চাঁদখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গড়ের আবাদ ও পূর্ব গজালিয়া গ্রামের মধ্যবর্তী নৈর নদীর ওপর নির্মিত এই কাঠের পুলটি স্থানীয়দের চলাচলের অন্যতম ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে পুলটির কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়লেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুলটির বিভিন্ন স্থানের কাঠের তক্তা ভেঙে গেছে। কোথাও তক্তা সরে গিয়ে নিচের পানি দেখা যাচ্ছে। পচে যাওয়া কয়েকটি খুঁটিও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে পুল পার হওয়ার সময় পথচারীদের প্রতিটি পা ফেলতে হচ্ছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
স্থানীয় আমিরুজ্জামান সরদার বলেন, দুই গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে পুলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এটি নড়বড়ে থাকলেও সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতে নিয়মিত এই পুল ব্যবহার করতে হয়। কৃষকদের মাঠ থেকে ফসল আনা-নেওয়া, মৎস্যচাষিদের মাছ পরিবহন এবং ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের বাজারে যাতায়াতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। পুলটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় অনেককে বিকল্প পথে ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও যাতায়াত খরচ দুটোই বাড়ছে।
স্থানীয় সাংবাদিক আবুল হাশেম বলেন, এলাকার মানুষের জীবিকার বড় অংশ কৃষি ও মৎস্যচাষনির্ভর। এই পুলের ওপর নির্ভর করেই কৃষিপণ্য ও মাছ বাজারে নেওয়া হয়। পুলটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় পণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় ও খরচ হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিজুল ইসলাম বলেন, পুলটির আরও কোনো অংশ ভেঙে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশু বা বয়স্ক কেউ পানিতে পড়ে গেলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে পুলটি সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
কলেজ শিক্ষার্থী হুমায়রা বিনতে রশিদ বলেন, পুলটি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাক্ষরসংবলিত আবেদন খুলনা জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত পুলটি নির্মাণের উদ্যোগ চান তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা আফসার আলী বলেন, আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হলেও মানুষের দুর্ভোগ কমবে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য কাঠের পরিবর্তে টেকসই উপকরণ দিয়ে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
চাঁদখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ সরদার বলেন, কাঠের পুলটি নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে এটির সংস্কারের জন্য বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুলটি সংস্কার করে মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দুই গ্রামের মানুষের দাবি, বর্ষা ও দৈনন্দিন চলাচলের ঝুঁকি বিবেচনায় পুলটির জরুরি সংস্কারের পাশাপাশি স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে নিরাপদ যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্যপণ্য দ্রুত বাজারজাত করাও সহজ হবে।