যশোর জাবির ইন্টারন্যাশনালে অগ্নিসংযোগ: ২৪ মৃত্যু মামলায় ৭ আসামির অব্যাহতি চেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন

✍🏻: নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

যশোর শহরের চিত্রা মোড়ের জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ২৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিভিন্ন সময়ে আটক সাতজনের বিরুদ্ধে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন আদালতে এ প্রতিবেদন জমা দেন।

অব্যাহতি চাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মো. আব্দুল খালেক (৬৫), মো. এনামুল হক (৫৯), আব্দুর রহমান শাওন (৩৬), অ্যাডভোকেট সৈয়দ কবির হোসেন জনি (৪১), এস এম আজাহার হোসেন স্বপন (৫২), কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল (৩১) এবং মো. ইমন কাজী (২৬)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন চিত্রা মোড়ের এমএম আলী রোডে অবস্থিত জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়।

অভিযোগে বলা হয়, দুর্বৃত্তরা গানপাউডার ও পেট্রোল নিয়ে হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করে। পরে হোটেলের ক্যাশ ভল্ট ভেঙে প্রায় ৯০ লাখ টাকা নিয়ে যায়। একই সঙ্গে হোটেলের বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়।

লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল প্রায় ১০০টি ফ্রিজ, ১০০টি স্মার্ট টেলিভিশন, ৪৫০ কিলোভোল্টের দুটি জেনারেটর, স্টোরে থাকা বিভিন্ন মালামাল ও আসবাবপত্র, এক হাজার কিলোভোল্টের ট্রান্সফরমারসহ সাবস্টেশন, প্রেসার পাম্প, সাইবার স্টেশন ও ফায়ার ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন সম্পদ।

পরে গানপাউডার ও পেট্রোল ব্যবহার করে হোটেলের প্রথম তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে হোটেলে অবস্থানরত একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিকসহ ২৪ জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। নিহতদের মধ্যে হোটেলের কর্মী ও বোর্ডার ছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডে হোটেলের বিভিন্ন কাগজপত্র, আসবাবপত্র, স্টোরের মালামাল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, তিনটি লিফট, জানালার গ্রিল ও কাচের দরজার ডেকোরেশনসহ বিভিন্ন সম্পদ পুড়ে যায়। এতে মূল ভবনেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই ও যশোর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলাটির দীর্ঘ তদন্তকালে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বিভিন্ন সময়ে সাতজনকে আটক করা হয়। তবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ কারণে ওই সাতজনকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।