যশোরের অভয়নগরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের দপ্তরিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নওয়াপাড়া বাজার এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বাহিরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুলিয়া আফরিন ও দপ্তরি মোস্তাফিজুর রহমান। জুলিয়া আফরিন উপজেলার চেঙ্গুটিয়া গ্রামের মৃত তৈয়ব দফাদারের মেয়ে এবং মোস্তাফিজুর রহমান বাহিরঘাট গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে।
অভয়নগর থানার ওসি (তদন্ত) শেখ লুৎফর রহমান জানান, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিদ্যালয় চলাকালে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রী শৌচাগারে গেলে সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেন সেখানে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার কথা কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরদিন শিশুটি বিদ্যালয়ে যেতে না চাইলে তার মা কারণ জানতে চান। এ সময় শিশুটি মায়ের কাছে নির্যাতনের ঘটনা জানায়। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।
ওসি (তদন্ত) আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার বিষয়টি শিশুটির অভিভাবক ও স্বজনরা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুলিয়া আফরিনকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে দপ্তরি মোস্তাফিজুর রহমানের সহায়তায় অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় জুলিয়া আফরিন ও মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। দ্রুত তাঁকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ওসি (তদন্ত) শেখ লুৎফর রহমান।
