যশোরের টিবি ক্লিনিক এলাকার দিলিপ মিয়ার গলিতে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে মাদক সেবন ও বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকা কামাল হোসেনের ওই ভাঙা বাড়িটি এখন মাদকসেবী ও কারবারিদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত সেখানে মাদকের টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে চলছে বিরোধ।স্থানীয়দের দাবি, দিন-রাত ওই বাড়িতে মাদক সেবন থেকে শুরু করে কেনাবেচা পর্যন্ত চলছে। পরিত্যক্ত বাড়িটির বিভিন্ন অংশে পর্দা টাঙিয়ে আড়াল তৈরি করে সেখানে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। প্রশাসনের লোকজন দেখলেই পেছনের প্রাচীর দিয়ে টপকে যান মাতক কারবারীরা।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা বাড়িটির ভেতরে কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। এ সময় একজনকে গাঁজা প্রস্তুত করতে এবং পাশে আরও কয়েকজনকে ইয়াবা সেবন করতে দেখা যায় । সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা মাদক সেবনের সরঞ্জাম ফেলে প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টিবি ক্লিনিক এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ওই মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাদের মধ্যে নজরুলের ছেলে জসিম, শুভ, আলামিন ওরফে চোর আলআমিন ও চায়ের দোকানি সোহাগসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন তারা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের কর্মকাণ্ড চললেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। ওই এলাকা দিয়ে এলাকাবাসী চলাচলেও বাধা সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদ করলে হুমকির মুখে পড়তে হয় বলেও দাবি করেন তারা। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, মাদক কারবার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিত্যক্ত টিনসেড ঘরটি অপসারণ করা হোক।
বিষয়টি নিয়ে বাড়ির মালিক কামাল হোসেন বলেন, ১৯৯০ সালে তিনি ওই জমিটি কিনেছেন। পরে সেখানে গরুর খামার তৈরী করা হয়েছিলো। এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সেখানে তিনি বসবাস করেন না। বিষয়টি নিয়ে তিনিও অতিষ্ঠ। তবে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতরা সন্ত্রাসী প্রকৃতির হওয়ায় তিনি নিজেও অসহায় অবস্থায় রয়েছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি আগে জানা ছিল না। তবে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
