বরগুনায় চোরাই মালামাল সংরক্ষণ ও ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৬ ভরি ১১ আনা ৫ রতি স্বর্ণালংকার এবং চোরাই সন্দেহে একটি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও দুই ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা। এর আগে বুধবার (২৯ জুলাই) বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুই নারী হলেন, আদাবাড়িয়া গ্রামের সোহেলের স্ত্রী মোসা. খাদিজা (৪০) এবং ইব্রাহীমের স্ত্রী মোসা. মরিয়ম (৩৫)। তারা সম্পর্কে আপন বোন।
পুলিশ জানায়, একটি চোরাই অটোরিকশা উদ্ধারের জন্য মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আদাবাড়িয়া গ্রামের সোহেল খাদিজা দম্পতির বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সোহেল পালিয়ে যান। পরে বাড়ির সামনে লুকিয়ে রাখা একটি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। এরপর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সোহেল-খাদিজার ঘরে তল্লাশি চালায় পুলিশ।
এ সময় জরাজীর্ণ ঘরের ভেতরে একটি নতুন আলমিরা দেখতে পেয়ে পুলিশের সন্দেহ হয়। আলমিরাটি কার জানতে চাইলে খাদিজা জানান, সেটি তার নয়, তার বোন মরিয়মের। পরে মরিয়মের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আলমিরার চাবিসহ তাকে খাদিজার বাড়িতে নিয়ে আসে পুলিশ। চাবি দিয়ে আলমিরা খোলার পর সেখান থেকে নগদ ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ৬ ভরি ১১ আনা ৫ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পরে খাদিজা ও মরিয়মকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে খাদিজার স্বামী সোহেল পালিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় চুরি, চোরাই মালামাল সংরক্ষণ এবং ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, মরিয়মের পাকা বাড়ি হলেও তিনি তার বোনের কুঁড়েঘরে নতুন আলমারির মধ্যে টাকা ও স্বর্ণালংকার রেখেছিলেন, যাতে কারও সন্দেহ না হয়। উদ্ধার হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকারের বিষয়ে আমরা তথ্য নিয়ে জানতে পেরেছি, মরিয়মের স্বামী ইব্রাহীম ঢাকায় সিএনজি চালক হিসেবে কাজ করেন এবং তার বিরুদ্ধে চুরি, মলম পার্টি ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিরাপদে রাখার জন্যই সেগুলো সেখানে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। উদ্ধার হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার আইন অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। এবিষয়ে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও চোরাই মালামাল উদ্ধারে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চুরি, ডাকাতিসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
