যশোরের অভয়নগরে পূর্বের একটি চুরি মামলার জের ধরে এক শ্রমিক সরদারকে মারধর করে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৬ জনকে আসামি করে অভয়নগর থানায় মামলা করা হয়েছে।
মামলার বাদী মানিক সরদার (৩২) উপজেলার মশরহাটি গ্রামের মৃত মতিউর রহমান সরদারের ছেলে। তিনি মশরহাটি এলাকার পরশ অটো রাইস মিল ও মেসার্স সাথী অ্যান্ড ব্রাদার্স ময়দা মিলের ঘাট ও লেবার সরদার হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে ওই মিলের ভেতর থেকে লোহার মালামাল চুরির ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় মানিক সরদার বাদী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, মামলার আসামিরা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছিলেন।
এজাহারে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে নওয়াপাড়া স্টেশন বাজার এলাকার এ রহমান পরশ অটো রাইস মিলের হেড অফিস থেকে শ্রমিকদের বিল বাবদ ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে মশরহাটি গ্রামের মেসার্স সাথী অ্যান্ড ব্রাদার্স ময়দা মিলের দিকে যাচ্ছিলেন মানিক সরদার।
পথে মিলের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া অভিযুক্তরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর কয়েকজন তাকে গালিগালাজ করে পূর্বের মামলা করার ‘সাধ মিটিয়ে দেওয়ার’ কথা বলে লোহার রড, হকিস্টিক ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করেন বলে দাবি করেন মানিক।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় কয়েকজন তার দুই হাত ধরে রাখেন এবং একজন তার হাতে থাকা সাদা কাপড়ের ব্যাগ থেকে শ্রমিকদের বিলের ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে নেন।
মানিকের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা আহত মানিক সরদারকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে এজাহারে জানানো হয়েছে।
অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
