যশোরের মণিরামপুরে মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজের নৈশপ্রহরী রাজকুমার মণ্ডল এক মাসের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রীর করা লিখিত অভিযোগ এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের ভিন্ন বক্তব্য ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে নিখোঁজের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা গেছে, উপজেলার কপালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রাজকুমার মণ্ডল কলেজটি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত। গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে কলেজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
স্বামীর সন্ধান না পেয়ে স্ত্রী মিনতি মণ্ডল মণিরামপুর থানাসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে কলেজের অধ্যাপক হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে রাজকুমারকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধমকি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মিনতি মণ্ডল জানান, প্রতিবেশী এক ব্যক্তির কথায় এবং তাঁর সঙ্গে গিয়ে তিনি অভিযোগটি করেছেন।
এদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে রাজকুমার কলেজে দায়িত্ব পালন করতে এসেছিলেন। পরে কয়েক দিন অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটিকে জানানো হয়। তাঁকে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
অধ্যাপক হাফিজুর রহমানের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, রাজকুমারের কাছে টাকা পাওয়ার বিষয়ে কয়েকজন ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এমনকি চাকরি ছেড়ে দিয়ে ওই পদে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় পর্যায়ে পাওনাদারদের চাপের কারণে রাজকুমারের আত্মগোপনে থাকার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা কিংবা নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
