শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও নিয়ে আলোচিত সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার

✍🏻: দেশদৃষ্টি ডেস্ক:
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদী থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (২৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটি আলোচিত ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরখান থানার ডিউটি অফিসার শাহীনুর জামান গণমাধ্যমকে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফিরোজ উদ্দিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পাওয়া যায়। পরে নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় তাঁর পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো শার্ট। হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঢাকা জেলা নৌপুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার জানান, মরদেহে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সম্ভাবনার কথা বলা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

তাহসিফ সৌরি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে।

এদিকে তাহসিফের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তাঁর চাচাতো বোন মোশফেকা জাহান। বৃহস্পতিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, আলোচিত ভিডিও প্রকাশের পর তাহসিফকে মানসিক চাপ ও নজরদারির মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে তাঁর এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

বৃহস্পতিবার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের তথ্য পাওয়ার আগে তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না তিনি। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিওর সঙ্গে এই মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে প্রশ্নেও তদন্তের ফল জানার ওপর গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তাহসিফ সৌরির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তিনি কী পরিস্থিতিতে নদীতে পড়েছেন কিংবা তাঁর মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল জানান, তাঁর ছেলে মাঝেমধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন, তা পরিবারকে জানাননি। কাউকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে দেখেছেন বা এমন হুমকি পেয়েছেন বলেও বাবাকে কিছু বলেননি।

তাঁর বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার আগে ‘দীপ’ নামের এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে বাসা থেকে নিচে নামেন তাহসিফ। এরপর আর বাসায় ফেরেননি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে বাসায় ফেরার কথা জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন তিনি।

এ ছাড়া গত ২১ জুলাই প্রকাশিত একটি পডকাস্টে তাহসিফ শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিওটি নিজে ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ফলে ভিডিওটি তাঁর ধারণ করা—এমন দাবি নিশ্চিত নয়।