যশোরের চৌগাছা বাজারের সার ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান লেন্টুর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে হয়রানি, জমি ও দোকানঘর দখলের চেষ্টা এবং পরিবারের অর্থ-সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন তার আপন ছোট চাচা মো. ইছাহক আলী।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ইছাহক আলী। এ সময় তার সঙ্গে শফিকুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইছাহক আলী বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর আতিকুর রহমান লেন্টু যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। পরদিন তিনি এর প্রতিবাদে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করেন। লেন্টুর ওই বক্তব্যকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে তার প্রতিবাদ জানাতেই তিনি সংবাদ সম্মেলন করছেন বলে জানান ইছাহক আলী।
ইছাহক আলী অভিযোগ করেন, আতিকুর রহমান লেন্টু দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিসিআইসি সারের ডিলারশিপ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আবারও রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে ওই ডিলারশিপ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া চৌগাছা বাজারে তার জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে দাবি করে ইছাহক আলী বলেন, সম্প্রতি ওই জমি দখলের চেষ্টা প্রতিহত করে তারা বৈধভাবে জমির দখল নিয়েছেন। বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসন অবগত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, চৌগাছা বাজারের একটি দোকানঘর ইছাহক আলীর মেঝো ভাই মরহুম ইসমাইল হোসেনের সম্পত্তি। সেটি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ সংক্রান্ত প্রমাণপত্র রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া চৌগাছা মডেল মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করে আতিকুর রহমান লেন্টু হাইকোর্টে রিট করেছিলেন বলেও দাবি করেন ইছাহক আলী।
সংবাদ সম্মেলনে ইছাহক আলী বলেন, লেন্টু তার পরিবারের অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করেননি বলে দাবি করেছেন। তাই এসব সম্পদ আত্মসাতের প্রমাণ দেখাতে পারলে তা ফেরত দেওয়ার যে বক্তব্য লেন্টু দিয়েছেন, সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে প্রমাণের ভিত্তিতে পরিবারের সম্পদ ফেরত পাওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আতিকুর রহমান লেন্টুর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর আয়োজিত তার সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বলে ইছাহক আলীর লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইছাহক আলী।
