দায়িত্বহীনতায় গোবিপ্রবি প্রশাসন: ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আবাসিক শিক্ষার্থী

✍🏻: গোবিপ্রবি প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে
দায়িত্বহীনতায় গোবিপ্রবি প্রশাসন: ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আবাসিক শিক্ষার্থী

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মশার উপদ্রব ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। মশার উৎপাত বৃদ্ধির ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তিতুমীর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ফেরদৌস সালাম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তার ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মশাবাহিত রোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মশার উপদ্রবের কারণে দিনের বেলাতেও অনেক শিক্ষার্থী মশারি টাঙিয়ে পড়াশোনা ও বিশ্রাম নিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর আশপাশের বিভিন্ন ড্রেনে দীর্ঘদিন ধরে নোংরা ও স্থির পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। পাশাপাশি হলসংলগ্ন খেলার মাঠের পাশে ময়লার স্তূপও পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসব স্থানে জমে থাকা পানি ও আবর্জনা মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউমার্কেট, হল চত্বর, সেন্ট্রাল ফিল্ডসহ বিভিন্ন স্থানেও মশার উপদ্রব বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় অবস্থান ও চলাচল তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার মশানিরোধক ওষুধ ছিটানোর উদ্যোগ নিলেও মশার উপদ্রব কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তারা নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ময়লার স্তূপ দ্রুত সরানোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট দপ্তরের পরিচালক নিজামুল হক বলেন, “আমরা ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়েছি। আগামী পরশু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রক্টর স্যারকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এছাড়া পৌরসভাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফগিং স্প্রে করবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আহসান সৌরভ বলেন, “ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের যে শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তার অসুস্থতার বিষয়টি জানার পর আমি দ্রুত পরিবহন প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই শিক্ষার্থীকে তার নিজ বাড়ি যশোরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “মশা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে মশা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাতে মশার লার্ভা ধ্বংসসহ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।