নড়াইল সদর উপজেলার ৯ নং সিংগাশোলপুর ইউনিয়নে অবস্থিত শত শত বছরের পুরোনো চুন-সড়কির জাগ্রত কালীমন্দিরটি সংস্কারের অভাবে হারাতে বসেছে তার ঐতিহ্য। জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে মন্দিরের স্থাপনা।
একসময় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে এখানে কালীপূজা অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে সেই আয়োজন। প্রাচীন এই মন্দিরটি সংরক্ষণ ও সংস্কারে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিংগাশোলপুর ইউনিয়নে শশাঙ্ক ময়রার বাড়ির পাশে অবস্থিত এই প্রাচীন কালীমন্দিরটি একসময় এলাকার মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। কালীপূজার সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা এখানে আসতেন। দেবীর কাছে মানত করতেন অনেকে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, মন্দিরের কালীদেবী ছিলেন জাগ্রত।
তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মন্দিরটি এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থাপনার বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় সেখানে পূজা-অর্চনা করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এখানে নিয়মিত কালীপূজা হয় না; শুধু পাটপূজা করা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় এক গৃহবধূ জানান, তাঁদের বিয়ের পর থেকে এই মন্দিরে আর কালীপূজা হতে দেখেননি। মন্দিরটি অনেক পুরোনো হওয়ায় ভেঙেচুরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারি উদ্যোগে সংস্কার করা হলে আবারও এখানে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পূজার আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্দিরটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রবীন্দ্রনাথ সরকার (ময়রা) জানান, তাঁর বাপ-ঠাকুরদাদের কাছে শুনেছেন, একসময় এই মন্দিরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে কালীপূজা হতো। মন্দিরটির জায়গার পরিমাণ প্রায় দুই শতক। বর্তমানে এর অবস্থা এতটাই নাজুক যে সেখানে পূজা-অর্চনা করাও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই মন্দিরটি রক্ষায় তিনি সরকারি সংস্কারের দাবি জানান।
স্থানীয় প্রবীণদের কাছেও মন্দিরটির নির্মাণকাল ও নির্মাতাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। ফলে যথাযথ অনুসন্ধান ও সংরক্ষণের অভাবে এলাকার প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, মন্দিরটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব যাচাই করে সরকারি উদ্যোগে সংস্কার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে একদিকে যেমন প্রাচীন স্থাপনাটি রক্ষা পাবে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও জানতে পারবে এলাকার ইতিহাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে
