যশোরে পৈতৃক ভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

✍🏻: যশোর প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

যশোর সদর উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামে পৈতৃক ভিটা থেকে একটি পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পরিবারটির সদস্যদের ভয়ভীতি, হয়রানি ও মারধর করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

সোমবার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন চাঁদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুজন হোসেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, বসতবাড়ির সঙ্গে থাকা প্রায় দুই শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছে। স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বি. এম. এলাম হোসেন রানাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওই জমি দখলের চেষ্টা ও পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, একপর্যায়ে আইনগত ও পারিবারিকভাবে জমি ভাগবাটোয়ারা করে সংশ্লিষ্টদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপরও বিরোধের অবসান হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সহযোগিতার জন্য বিএনপি নেতা বি. এম. এলাম হোসেন রানার কাছে গেলে তিনি অভিযুক্তদের পক্ষ নেন। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে বিরোধ মীমাংসা করে বিধবা ও এতিমদের প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও জাফর ও সুজনের রাস্তার পাশের বসতবাড়ির জমি দখলের চেষ্টা করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উদ্যোগে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সুজন আরও অভিযোগ করেন, প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের তার জমি জোরপূর্বক মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। এতে বি. এম. এলাম হোসেন রানা সহযোগিতা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে জমির ক্রেতা আবুল কালাম আজাদ জমি দখল নিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ সময় বি. এম. এলাম হোসেন রানা এতে বাধা দেন।

পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বিতর্কিত জমি নিয়ে ১৪৪ ধারায় মামলা এবং আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সুজনের অভিযোগ, আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন সেখানে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিধবা হুমায়া, রকি ও বিএনপি নেতা বি. এম. এলাম হোসেন রানা তাদের ভয়ভীতি দেখান এবং মারধর করেন।

এ ঘটনায় সুজন ও তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাফর আলী, মর্জিনা বেগম, রেজাউল ইসলাম, শিরিনা বেগম, সেলিম রেজা প্রমুখ।