বাঘারপাড়ায় বাড়িতে ঢুকে চাঁদা দাবির অভিযোগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সভায় হাজির ভুক্তভোগী পরিবার

✍🏻: বাঘারপাড়া প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ১ দিন আগে

যশোরের বাঘারপাড়ায় গভীর রাতে একটি পরিবারের বাড়িতে গিয়ে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবার সোমবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় হাজির হয়ে এমন অভিযোগ করেছে। এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। রোববার গভীর রাতে এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের গলগলিয়া গ্রামের সুকুমার গাইনের বাড়িতে।

ভুক্তভোগী সুকুমার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দোহাকুলা ইউনিয়নের কথিত যুবদল নেতা আনিসুর রহমান ও তার সঙ্গে থাকা ছয়-সাতজন ব্যক্তি সুকুমারকে ডাকাডাকি করতে থাকেন। ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরের দরজা খুলতে বাধ্য করেন। ঘরে প্রবেশ করেই বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে সুকুমার তার ঘরে গচ্ছিত ১৩ হাজার ৫০০ টাকা আনিসুরের সঙ্গে থাকা আরেক কথিত নেতা রবির হাতে তুলে দেন। রবি উপজেলা সদর সংলগ্ন মীরপুর গ্রামের রোস্তম আলীর ছেলে।

সুকুমার গাইনের স্ত্রী শিখা গাইন জানান, আনিসুর ও তার সঙ্গে থাকা রবি তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন, “তোরা ইন্ডিয়ায় চলে যাচ্ছিস। আমাদের ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। না হলে তোদের পুলিশ দিয়ে ধরে থানায় মামলা দেব।” নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে গচ্ছিত ১৩ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে তারা চলে যায়।

শিখা গাইন এ প্রতিবেদককে জানান, তার স্বামী জটিল রোগে ভুগছেন। ভারতে চিকিৎসার জন্য মাঠের কিছু জমি বিক্রি করেছেন। সেই টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল।

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ জালাল আলম রাতদিন নিউজকে জানান, সোমবার বাঘারপাড়া উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ছিল। সভা শুরুর মুহূর্তে ভুক্তভোগী পরিবার গ্রামবাসীর একটি অংশকে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রবেশ করে ঘটনার বর্ণনা দেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম রসুল ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পুলিশ অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তে নেমেছে।

বিষয়টি জানতে কথিত সেই যুবনেতা আনিসুর রহমানকে মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি বলেন, ওই বাড়িতে ঝামেলার খবর শুনে তিনি মীমাংসা করতে গিয়েছিলেন। কোনো চাঁদা দাবি কিংবা আদায় করা হয়নি। এগুলো ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন তিনি।