জাল দলিলের মামলায় বাগআঁচড়ার আনোয়ার হোসেন কারাগারে

✍🏻: বাগআঁচড়া প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ১২ ঘন্টা আগে

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখলের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আনোয়ার হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

আনোয়ার হোসেন শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে। তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার যাদবপুর গ্রামের গোলাম কিবরিয়া ১৯৯৫ সালের ২২ জুন ৫২১৩ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে বাগআঁচড়া মৌজার ১২৮ নম্বর জেএলভুক্ত সাবেক ২৮৬৫ ও হাল ৩৩৭৪ নম্বর দাগে ১৭ শতক জমি কেনেন। পরে নামজারি করে ওই জমিতে ‘কিবরিয়া ফিলিং স্টেশন’ স্থাপন করেন। এরপর প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন।

গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুর পর ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল বিকেলে আনোয়ার হোসেন ১৯৯৯ সালের ৬ এপ্রিলের ১৯১১/৯৯ নম্বর একটি দলিল দেখিয়ে দাবি করেন, গোলাম কিবরিয়া ওই জমি তার কাছে বিক্রি করেছেন। ফলে জমিটির মালিক তিনিই বলে দাবি করেন আনোয়ার।

গোলাম কিবরিয়ার মেয়ে তনিমা তাসনুভা দলিলটি যাচাই করতে রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে দলিল নম্বরের সঙ্গে দাতা ও গ্রহীতার তথ্যের অমিল দেখতে পান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল বিকেলে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জমির দলিলের বিষয়ে আনোয়ার হোসেনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় তনিমা তাসনুভা ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল দলিল জালিয়াতির অভিযোগে আনোয়ার হোসেনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।

আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করেন ডিবি পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান। তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার দাবি করে আনোয়ার হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন তিনি।

প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালতের তৎকালীন বিচারক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন। নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এরপর গত ২০ জুলাই আনোয়ার হোসেন আদালতে হাজির হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিনি আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আনোয়ার হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।