বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজে ১৬ মেহগনি গাছের মোটা ডাল কাটার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

✍🏻: বাঘারপাড়া প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ১৪ ঘন্টা আগে

যশোরের বাঘারপাড়া ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ে ডাল ছাঁটাইয়ের নামে ১৬টি মেহগনি গাছের মোটা ডাল কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ ডাল ছাঁটাইয়ের অনুমতি থাকলেও গাছগুলোর বড় বড় ডাল কেটে কাঠের লগ তৈরি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্থানীয় চারজন শ্রমিক কলেজ ক্যাম্পাসে গাছের ডাল কাটার কাজ করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজের মূল ভবনের সামনে সারিবদ্ধভাবে প্রায় ২৫টি বড় মেহগনি গাছ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব গাছ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ছায়া দিয়ে আসছে। তবে গাছগুলোর মোটা ডাল কেটে ফেলায় স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন ও খেলার মাঠের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ডাল ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে গাছগুলোর বড় বড় ডাল কেটে কাঠের লগ তৈরি করা হয়েছে। এসব কাঠ বিক্রির মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। তবে কাঠ বিক্রি বা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে গাছের মোটা ডাল কাটার প্রতিবাদে রোববার (১ নভেম্বর) সকালে কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। এ সময় তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন বলেন, গাছের ডাল কাটার বিষয়ে কলেজে রেজুলেশন করা হয়েছে। কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই কাজ শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গাছের ডালপালার কারণে কলেজের মাঠে খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা চালু রাখার লক্ষ্যে গাছের ডালপালা ছাঁটাই ও মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার বলেন, গাছের ডালপালা ছাঁটাইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে কোনো গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং কলেজের সবুজ পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।