রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার জলঢাকা-ডোমার আঞ্চলিক সড়কের একবট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ডোমার থানা ওসি মো. হাবিবুল্লা হাবিব জানান।
নিহতরা হলেন- উপজেলার পাঙ্গামটকপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নদীয়াপাড়ার ওলি বর্মন রায়ের ছেলে মিথিলা (ভ্যান) চালক পরিমল বর্মন রায় (৪০), পরিমলের ছোট ভাই প্রদীপ বর্মন রায়ের স্ত্রী প্রতিমা বর্মন রায় (৩০), তার দুই সন্তান বিপাশা বর্মন রায় (৮) ও যাদব বর্মন রায় (৪)।
আহতদের প্রথমে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় বলে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রায়হান বারী জানান।
আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, পরিবারের সদস্যরা উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের মড়ালের ডাঙ্গা এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। এ সময় জলঢাকা থেকে ডোমারের দিকে আসছিল ট্রাকটি।
ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছন থেকে মিথিলাটিকে ধাক্কা দেয়। এরপর ট্রাকটি সড়কের পাশে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যান। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এসে হতাহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।
নিহত প্রতীমা রানীর স্বামী প্রদীপ বর্মন রায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “একটি বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার জন্য স্ত্রী ও তিন সন্তানকে বড় ভাইয়ের সঙ্গে পাঠিয়েছিলাম। মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। স্ত্রী আর দুই সন্তানকে একসঙ্গে হারালাম। আরেক সন্তান মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে হাসপাতালে। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব, কীভাবে এই শোক সহ্য করব।”
ডোমার থানার ওসি হাবিবুল্লা হাবিব বলেন, এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার সময় চালক ও তার সহকারী ট্রাকটি রেখে পালিয়ে যায়। আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।
