মুরাদনগরে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী গুরুতর আহত

✍🏻: দেশদৃষ্টি ডেস্ক:
প্রকাশ: ২ মাস আগে
কুমিল্লার মুরাদনগরে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা,

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের উত্তর পেন্নই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে আনোয়ার হোসেন গোপনে বাড়িতে ফেরেন। গভীর রাতে এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে মাইকিং করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর একদল লোক তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে আনোয়ার হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে মোমেনা বেগমও হামলার শিকার হন, এতে তার হাত গুরুতর জখম হয়। খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে রবিবার ভোরে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আনোয়ার হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগমের অভিযোগ, তার স্বামী দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। বাড়ি ফেরার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ ও তার লোকজন বাড়িতে হামলা চালান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের দাবি, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর তিনি এলাকায় ছিলেন না। স্বজনদের ভাষ্যমতে, ওই সময় তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

এলাকাবাসীর কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের বিরোধ ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এতে জড়িতদের পরিচয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতে অবৈধ ড্রেজার ও মাটি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। ২০২৩ সালে অবৈধ ড্রেজারবিরোধী অভিযানের সময় মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর গাড়িতে হামলার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ওঠে। তবে ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

ঘটনার পর উত্তর পেন্নই এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।