পেশাগত দায়িত্ব পালন কি এখন অপরাধ ? নাকি সত্য তুলে ধরার খেসারত দিতে হচ্ছে জীবন দিয়ে ? যশোরের অভয়নগরের সাংবাদিক মোঃ আবুল বাসার এর ওপর বোমা হামলার বর্বরোচিত ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, কলম সৈনিকদের জন্য মাঠ এখন মৃত্যুপুরী। গতকাল ২৯ জুন, রবিবার রাত ৮টার দিকে দৈনিক অগ্রযাত্রার জেলা প্রতিনিধি মো. আবুল বাশারকে লক্ষ্য করে ঘাতক চক্র যেভাবে বোমা নিক্ষেপ করেছে, তা কোনো সাধারণ হামলা নয়, এটি ছিল তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার এক নারকীয় প্রচেষ্টা।
নিহত হওয়ার হাত থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা সাংবাদিক আবুল বাশার জানান, রাতে পেশাগত দায়িত্ব শেষে ভ্যানযোগে নওয়াপাড়া বাজারে ফেরার পথে সিরাজকাঠি নুরানী মাদ্রাসার সামনে ওৎপেতে ছিল ১৫-২০ জনের একদল সন্ত্রাসী। কোনো কথা নেই, বার্তা নেই—পেছন থেকে সরাসরি তার পিঠে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয় শক্তিশালী বোমা (ককটেল)। ভাগ্যক্রমে সেটি বিস্ফোরিত হয়নি। চলন্ত ভ্যান থকে পড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। একটি অবিস্ফোরিত বোমা ঝোপে পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা প্রমাণ করে সন্ত্রাসীরা তাকে পরিকল্পিতভাবেই ছিন্নভিন্ন করে দিতে চেয়েছিল। তিনি যখন আহত অবস্থায় রাস্তার ওপর পড়ে ছটফট করছিলেন, তখন উপস্থিত ভ্যানচালক ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
বর্তমানে তিনি প্রচণ্ড শারীরিক যন্ত্রণায় হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন। তবে হাসপাতালের চেয়েও বড় জখম তার মনে সাংবাদিক হয়েও নিজ এলাকায় আজ তিনি নিরাপত্তাহীন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সিরাজকাঠি এলাকাটি কি তবে এখন সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে-? দিনের আলোতে নয়, রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর এভাবে বোমা হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে কোনো প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন, নাকি পেশাগত আক্রোশ-? প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মনে। সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা এবং তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোরতম শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে অভয়নগরের সাংবাদিক সমাজ।
হামলাকারীরা স্থানীয় ১৫-২০ জনের সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র হিসেবে চিহ্নিত। পুলিশের কাছে দায়রা করা হয়েছে লিখিত এজাহার। এখন দেখার বিষয়, রাষ্ট্র কি কলম সৈনিকের রক্ত ঝরানো এই নরপিশাচদের টিকি ছুঁতে পারবে? নাকি প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ফের কোনো হামলা করার সুযোগ পাবে এই ঘাতক দল? সাংবাদিক আবুল বাশারের এই আর্তনাদ আজ গোটা সাংবাদিক সমাজেরই আর্তনাদ। এই বর্বরতার বিচার চাই। এ ঘটনায় আজ বিকালে যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন, যশোর প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে, পাশাপাশি নওয়াপাড়া প্রেসক্লাব, অভয়নগর এক্সক্লাব,যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন অভয়নগর ইউনিট এর প্রতিবাদ সমাবেশ এর ডাক দিয়েছে।
