শার্শায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকে নারীকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ, আহত ৩

✍🏻: শার্শা প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ১ মাস আগে

যশোরের শার্শা উপজেলায় গভীর রাতে বসতঘরে প্রবেশ করে এক নারীকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। পরে এ ঘটনা নিয়ে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে হামলার অভিযোগে ওই নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মহিষাকুড়া (উত্তরপাড়া) গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. রেখা খাতুন (২৩) শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে সজীব হোসেন (২৪), ইসমাইল হোসেন (৪৫), আক্তারুল (৪০) ও মোসারাফ (৪৩) নামে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে রেখা খাতুন নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় সজীব হোসেন ভেন্টিলেটর দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে তার সঙ্গে অশ্লীল আচরণ ও মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। তার চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয়দের নিয়ে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বৈঠকে অভিযুক্তরা রেখা খাতুনকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার চাচা রিপন হোসেন (৩৪) ও চাচাতো ভাই লিটন হোসেন (৪০)কেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রিপন হোসেন শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান এবং লিটন হোসেনের নাকে আঘাত লেগে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তিনজনকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী রেখা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন।

এদিকে, ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে আহম্মদ আলীর বাড়িতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এ ঘটনা নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ওই বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আব্দুল হাই। তিনি বলেন, “আমি ওই বিচারে ছিলাম না। মহিষাকুড়া গ্রামের নেতৃত্বও আমি দিই না; নেতৃত্ব দেন সুলতান।”

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই রমজানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।