যশোরে সরকারি জমির রাস্তা দখল, ভূমি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা প্রতিবেদন’ দেওয়ার অভিযোগ

✍🏻: যশোর প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ১ মাস আগে

যশোরের শার্শা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম ও স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি জমি ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা নিয়ে আদালতে ‘মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক পরিবাব। শনিবার প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বেনাপোলের ভবেরবেড় গ্রামের সাইফুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বেনাপোল পৌরসভার ৮৮ নম্বর ভবেরবেড় মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের সিএস ও এসএ ২৮২ নম্বর দাগের ৫১ শতক সরকারি জমিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা রয়েছে। কিন্তু তা দখলে রেখেছে আরেকজন। এসব বিষয়ে মামলার পর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সহকারী কমিশনার ভুমিকে। অভিযোগ করা হয়, অ্যাসিল্যান্ড শার্শা ও ভূমি কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তারা অবৈধ দখলদার মাসুমের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন আদালতে। এতে তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, স্থানীয় বেনাপোল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও অফিস সহায়ক অসীমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে জনসাধারণের চলাচলের পথ অবমুক্ত করতে যশোরের জেলা প্রশাসকের দেওয়া বাস্তবায়নেও অ্যাসিল্যান্ডের চরম অসহযোগিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে ওই এলাকার ৯টি পরিবারের প্রায় ৪০ জন সদস্য অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩১ মার্চ ২০২৬ চলাচলের পথ অবমুক্ত রাখা এবং ভবন নির্মাণে বাঁধার কারণে হামলার বিচার চেয়ে প্রেস ক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন ও আদালতে মামলাও করেন তারা। আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে অ্যাসিল্যান্ড কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদনে দেখা যায়, পূর্বের নায়েবের প্রতিবেদনের সাথে অসংগতি রেখে তথ্য গোপন করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকারের বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুরাতন ম্যাপ অনুযায়ী সরকারি জমির প্রকৃত অবস্থান উদঘাটন এবং সরকারি স্বার্থসহ জনস্বার্থ রক্ষার জন্য জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।